শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নন্দীগ্রামের মানুষের হৃদয়ে থেকে গেলেন রোহান সরকার, এখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তাড়াশে দুঃস্থ নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান ও সেলাই মেশিন বিতরণ ​ তাড়াশে দুঃস্থ নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান ও সেলাই মেশিন বিতরণ ​ কাজিপুরে সার বিতরণে ইউএনও শাহনাজ পারভীনের আকস্মিক পরিদর্শন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে সেলিম রেজা এমপি কাজিপুরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও কাজিপুরে নৌকার বৈঠা হাতে মিছিল, নেতৃত্বে আবু সায়েম তালুকদার সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ডেঙ্গুর থাবা তাড়াশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল কাজিপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, দিনভর নানা কর্মসূচি

ত্যাগ, সততা আর মানুষের ভালোবাসায় কৃষকের সন্তান আজ দুইবারের এমপি

Reporter Name / ৭৭ Time View
Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

নন্দীগ্রাম(বগুড়া)প্রতিনিধিঃ

-কৃষকের ঘরে জন্ম, গ্রামবাংলার মাটিতে বেড়ে ওঠা, কঠোর পরিশ্রমে ব্যবসায়িক জীবনে প্রতিষ্ঠা, এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে জনগণের ভোটে জাতীয় সংসদের সদস্য জননেতা মোঃ মোশারফ হোসেনের জীবন ও রাজনৈতিক পথচলা যেন ত্যাগ, পরিশ্রম, সততা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এক দীর্ঘ উপাখ্যান।
বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের বুড়ইল গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মোঃ মোশারফ হোসেনের। গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঢাকায় পাড়ি জমান। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যবসায়িক জীবনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তবে ব্যবসায়িক সাফল্য তাকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়নি। বরং নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার এই মানসিকতাই ধীরে ধীরে তাকে সক্রিয় রাজনীতির মাঠে নিয়ে আসে। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর বগুড়া জেলা বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন মোঃ মোশারফ হোসেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। মামলা, হামলা, নির্যাতন ও নানা বাধা তাকে রাজপথ থেকে সরিয়ে দিতে পারেনি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। প্রথমবার সংসদে, তাও বিপুল ভোটে বিজয়। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় ৫২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন মোঃ মোশারফ হোসেন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। গণতান্ত্রিক অধিকার ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিতে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে ত্যাগ ও দলীয় আনুগত্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হয়। পরবর্তীতে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন মোঃ মোশারফ হোসেন। তার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং একটি শক্তিশালী কমিটি গঠিত হয়।
এরপর তিনি জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন। অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার সঙ্গে পালন করে আসছেন তিনি।কেন্দ্রীয় কৃষক দলেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে মোঃ মোশারফ হোসেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি কৃষক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও দৃঢ় করেন তিনি। দ্বিতীয়বারও জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো বিএনপির মনোনয়ন পান মোঃ মোশারফ হোসেন।
ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ফলে কৃষকের ঘরের সন্তান থেকে ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতির পরীক্ষিত সৈনিক এবং সেখান থেকে জনগণের ভোটে দুইবারের সংসদ সদস্য—তার রাজনৈতিক জীবনে যুক্ত হয় নতুন অধ্যায়।
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা থেকে বগুড়ায় তারেক রহমানের উদ্যোগে গড়ে ওঠা শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করছেন মোঃ মোশারফ হোসেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে কাহালু-নন্দীগ্রামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার পরিচালনা, জামিন ও আইনি সহায়তায় ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার কথাও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
এ ছাড়া চিকিৎসার প্রয়োজনে কাহালু-নন্দীগ্রামের কোনো মানুষ বগুড়া কিংবা ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হলে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন বলেও তার অনুসারীরা জানান। ব্যবসায়িক জীবনের উপার্জন মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং জনগণের ভোটে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা মোঃ মোশারফ হোসেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক পথচলায় মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি বারবার উঠে আসে। কৃষকের ঘরের সন্তান থেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতির পরীক্ষিত সৈনিক, আর সেখান থেকে জনগণের ভোটে দুইবারের জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা মোঃ মোশারফ হোসেনের এই পথচলা কাহালু-নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার দীর্ঘ সংগ্রাম, সাংগঠনিক ভূমিকা ও জনসম্পৃক্ততার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
কৃষকের ঘর থেকে সংসদ এই দীর্ঘ পথের প্রতিটি ধাপে ত্যাগ, সংগ্রাম ও মানুষের পাশে থাকার যে গল্প, সেটিই মোঃ মোশারফ হোসেনের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর