মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বিনগ্রামে গুণী শিক্ষক, কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল কৃষক সম্মাননা অনুষ্ঠিত সোনামুখী বাজারে পুলিশের অভিযান, উদ্ধার ৫ গ্রাম হেরোইন ও ৭৩ পিস ইয়াবা ময়মনসিংহে চরসিরতা ও পরানগঞ্জে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ দীঘিনালা রশিকনগর শ্রী শ্রী হরি মন্দিরে ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে সপ্তমী পূজা উদযাপন দীঘিনালা বোয়ালখালী শ্রী শ্রী নারায়ন মন্দিরে ঢাকের বোলে জাগলো মা, সপ্তমীর ভোরে ভক্তের ঢল* _শ্রী শ্রী নারায়ন মন্দিরে উৎসবমুখর সপ্তমী পূজা_ দীঘিনালায় দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, ৯টি মণ্ডপ ব্যস্ততার তুঙ্গে নন্দীগ্রামের ফজলুল উলুম আদর্শ মহিলা মাদ্রাসা দোয়া ও পুরস্কার বিতরণ পুরোনো বোরকা দিয়ে ‘ক্রিশ’ সাজ, সিরাজগঞ্জের তরুণ মামুনের স্বপ্ন এখন বড় পর্দায় কাজিপুরের চরাঞ্চলের দুই ইউনিয়ন পরিদর্শনে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক তাড়াশে ধাপ ওয়াশীন উচ্চ বিদ্যালয়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

এক পা হারিয়ে থমকে গেছে নন্দীগ্রামের কুমার অজিত পালের জীবন, ভাঙা ঘরে অনাহারে কাটছে পরিবার

Reporter Name / ৭১ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

আরাফাত হোসেন নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪নং থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের আমড়া গোহাইল পালপাড়ার বাসিন্দা অজিত পাল। পেশায় তিনি একজন কুমার। মাটি দিয়ে হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা ধরনের জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর হাতের তৈরি মাটির সামগ্রী বিক্রি করেই চলত সংসার। কিন্তু এক কঠিন অসুস্থতা তাঁর জীবনের চেনা ছন্দ কেড়ে নিয়েছে। এখন নিজের শারীরিক অসুস্থতা, কর্মহীনতা আর পরিবারের অভাব-অনটন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁর।২০২৫ সালে যক্ষ্মা ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন অজিত পাল। চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। অসুস্থতার একপর্যায়ে তাঁর বাম পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং সেখানে পচন ধরে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর বাম পা কেটে ফেলতে হয়। একটি পা হারানোর মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনে নেমে আসে গভীর সংকট।যে মানুষটি নিজের পরিশ্রমে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতেন, সেই মানুষটিই আজ অন্যের সহযোগিতার প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছেন। পেশাগতভাবে কুমার হওয়ায় মাটির জিনিসপত্র তৈরি করাই ছিল তাঁর প্রধান জীবিকার অবলম্বন। কিন্তু পা হারানোর পর সেই কাজ করে আগের মতো আয় করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে ঘিরে থাকা সংসারটি এখন চরম দুর্দশার মুখে।

অজিত পালের পরিবারের বসবাস একটি ভাঙাচোরা কুটিরে। সেখানে অভাব-অনটন যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। পরিবারের খাবারের ব্যবস্থাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। অসুস্থতা, কর্মক্ষমতা হারানো এবং আর্থিক সংকট সব মিলিয়ে পরিবারটির স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে।একদিকে নিজের চিকিৎসা ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চিন্তা সবকিছু মিলিয়ে অজিত পালের জীবন এখন বড় এক সংগ্রামের নাম। সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকাকালে যিনি নিজের শ্রমে সংসার চালাতেন, আজ তাঁর পক্ষেই পরিবারের প্রয়োজন মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।দারিদ্র্যের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার এবং পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করাও তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একটি পা হারানোর পর নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার জন্য যে সহায়তা প্রয়োজন, তা পাওয়ার সুযোগও সীমিত।
অজিত পালের মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং মানবিক হৃদয়ের মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, চিকিৎসাসেবা কিংবা তাঁর উপযোগী কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে পরিবারটির কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে।
বিশেষ করে তাঁর শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে মানানসই কোনো জীবিকার ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবারের জন্য কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে তাঁর পুনর্বাসনের পথও সহজ হতে পারে।

বগুড়ার নন্দীগ্রামের এই অসহায় কুমার ও তাঁর পরিবারের পাশে সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো তাঁদের দুঃসহ দিনগুলো কিছুটা স্বস্তির আলো দেখতে পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর