বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কাজিপুরের সোনামুখী বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, কাজিপুরে এক বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বাবা আটক, তদন্তে পুলিশ তাড়াশে পুলিশ নারী হেল্প ডেস্ক ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা তাড়াশে ছাত্রীদের যৌন হয়রানকারী শিক্ষককে গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বামীর পরকীয়া ফাঁস করায় স্ত্রীকে তালাক, মিথ্যা মামলার অভিযোগ—বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ তানিয়া ধুবিলে আইএবি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল করিমের নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়ার অভিযোগ, জনমনে ক্ষোভ তাড়াশে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মাছ ব্যবসায়ীর সোনামুখীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোনেক্কা হোসেনের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার, স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মাঝে তাড়াশে সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান তালুকদারের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মায়ের শ্লীলতাহানির জেরে যুবককে গলা কেটে হত্যা : পিবিআইয়ের হাতে ৪ আসামি গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

Reporter Name / ২০ Time View
Update : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহ নগরীতে মায়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযানে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ০৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকালে ময়মনসিংহ নগরীর ৩৬ বাড়ি কলোনি, আর.কে. মিশন রোডের একটি ভাড়া বাসায় মো. রুবেল (৩৮) নামে এক যুবককে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

হত্যার খবর পেয়ে পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক-এর নেতৃত্বে একটি ক্রাইম সিন টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্তকারীরা ঘটনার সূত্র খুঁজে বের করেন।

পিবিআই জানায়, ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই, গত ০৫ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে, অভিযানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) এবং ইমরাজ (১৮)।

এ ঘটনায় নিহত রুবেলের বাবা মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে বাড়ির মালিকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মামলা নং-১৮, তারিখ: ০৬ জুলাই ২০২৬, পেনাল কোডের ৩২০/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়। পরে মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক।

গ্রেফতারের পর আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে জনি (২৮) হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে ০৬ জুলাই চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে জনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক তদন্ত ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে নিহত রুবেল ৩৬ বাড়ি কলোনির আর.কে. মিশন রোডে পারুল নামে এক নারীর বাসায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে বাসার মালিকপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ঘটনার দিন ভোরে রুবেলের সঙ্গে পারুলের কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় রুবেল পারুলকে শ্লীলতাহানি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে পারুলের চার ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে রুবেলের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

তবে পিবিআই জানিয়েছে, এটি তদন্তের প্রাথমিক তথ্য। অভিযোগের সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব আলামত সংগ্রহ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

পিবিআই বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর