সিংড়ায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে পশুর হাট, চাহিদার দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত
রবিউল ইসলাম, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শেষ মুহূর্তে এসে দারুণভাবে জমে উঠেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী ‘সিংড়া পশুর হাট’। আজ সোমবার (২৫ মে) সরেজমিনে হাটে গিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারি, ক্রেতা ও বিক্রেতারা এই হাটে পশু কেনাবেচা করতে ভিড় জমাচ্ছেন।
এবারের হাটে পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ ক্রেতারা তাদের বাজেট অনুযায়ী পছন্দের গরু কিনতে পেরে বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাজারে গরুর দাম এবার নাগালের মধ্যেই রয়েছে।
তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বিক্রেতাদের কণ্ঠে। অনেক খামারি ও বিক্রেতার অভিযোগ—গত বছরের তুলনায় এবার পশুর বাজার কিছুটা নরম বা কম। আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় অনেক বিক্রেতাই হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
গরুর পাশাপাশি এবারের হাটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছাগলের জোগান। আজ সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে খামারি এবং গৃহস্থরা নানা প্রজাতির ছাগল নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেন। দেশী প্রজাতির পাশাপাশি উন্নত জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল, যমুনাপারীসহ বিভিন্ন সাইজ ও রঙের ছাগলে মুহূর্তেই ভরে ওঠে হাটের নির্দিষ্ট অংশ। ক্রেতারাও তাদের পছন্দ এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দরদাম করে ছাগল কিনছেন। হাটে মাঝারি ও ছোট সাইজের ছাগলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে এবং সকাল থেকেই বেশ ভালোভাবেই চলছে কেনাবেচা।
এদিকে হাটের পর্যাপ্ত জায়গা, নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলার বিষয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে হাটে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়ের বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশু কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতারা। এই ভোগান্তি দূর করতে তারা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবার সিংড়া উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে উপজেলায় পশুর কোনো ঘাটতি তো নেই-ই, উল্টো বিশাল পরিমাণ পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে, যা দেশের অন্যান্য জেলার কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখছে।
সিংড়া উপজেলায় এবার কোরবানিযোগ্য পশুর মোট প্রাপ্যতা ১ লাখ ২ হাজার ৬১৯টি, যার বিপরীতে স্থানীয় চাহিদা মাত্র ৫১,২৭১টি। ফলে এবার উপজেলায় প্রায় ৫১,৩৪৮টি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, খামারিরা যাতে তাদের পশুগুলো নিরাপদে এবং সুস্থ অবস্থায় বিক্রি করতে পারেন, সেজন্য প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মেডিকেল টিমও হাটগুলোতে সক্রিয় রয়েছে। উদ্বৃত্ত এই পশুগুলো স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটের জোগান সমৃদ্ধ করছে।








