ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক কার্যালয় অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ক্যাশিয়ার মোঃ ইমরান মেহেদী হাসান আরিফ ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশন-এর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনকারী মোঃ জুবায়ের হোসেন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মোঃ ইমরান মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদনে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অন্য জেলায় বদলি করা হয় হয়েছে।
মেহেদী হাসান আরিফ এর আগে সরকারি কাগজপত্র ও বদলি সংক্রান্ত কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। মামলা সংক্রান্ত বিষয় শেষ না হয় জালিয়াতি করে আবারও ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয় যোগদান করেছেন। গত ৮ ই মার্চ মেহেদী হাসান আরিফ সহ পাঁচজনের নামে দুটি সাইবার সংক্রান্ত জিডি হয়েছে।
ময়মনসিংহ নগরীর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মেহেদী হাসান ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ আছে। বিভিন্ন আইডিতে কমেন্ট করে অস্থির মন্তব্য করে। কিছু কথিত ভুয়া সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে পেশাদার সাংবাদিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তার নামে দুটি জিডি হয়েছে। জিডি নং- ৩৪৫, ২৩৪, এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আইসিটি মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন ভুক্তভোগী।
আবেদনে আরও বলা হয়, বদলি বাতিলের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে এবং এ সংক্রান্ত ঘটনায় র্যাব-৩-এর অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগকারী দাবি করেন, ওই সময় অবৈধ সম্পদ অর্জন ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়। আউটসোর্সিং নিয়োগ, বেসরকারি ক্লিনিকের লাইসেন্স প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বিপুল অংকের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং সেগুলো বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নিষ্পত্তি দেখানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া যোগদানপত্র গ্রহণ, বদলি প্রক্রিয়া ও কর্মচারীদের কাছে অর্থ দাবির অভিযোগও আবেদনপত্রে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে সরকারি কাগজপত্র জালিয়াতের অভিযোগে ছয় মাস কারাগারে ছিলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কেরানি জাকির হোসেন জানান, মেহেদী হল আন্তর্জাতিক জালিয়াতি চক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আমি জিডি করেছি। কিছু কথিত সাংবাদিক দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। আমি এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুটি জিডি করেছি।








