শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তাড়াশে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নন্দীগ্রামে বিএনপি নেতা ওয়াহেদ কে হত্যার চেষ্টা করেন দুর্বৃত্তরা রাজশাহী বিভাগে উপস্থিত বক্তৃতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন জারিফ হাসান বাঙ্গালা ইউনিয়নে জনগণের স্বার্থে কাজ করতে চান চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহ আলম বিএসসি উল্লাপাড়ায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম তাড়াশে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে চাউলকল মালিকের ৭টি ঘর পুরে ছাই তাড়াশে পৌর বাজার প্রবেশ পথের জনদুর্ভোগ নিরসনে সংস্কার কাজের উদ্বোধন তাড়াশে পৌর বাজার প্রবেশ পথের জনদুর্ভোগ নিরসনে সংস্কার কাজের উদ্বোধন তাড়াশে কথিত মিনি পতিতালয়ে পুলিশের অভিযান,

তাড়াশে কোরবানির চামড়ার বাজারে ধস: দাম না পেয়ে মাঠেই ফেলে যাচ্ছেন বিক্রেতারা!

Reporter Name / ৪১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মজিবর রহমান

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কোরবানির চামড়ার বাজারে ব্যাপক ধস, দাম না পেয়ে মাঠেই  ফেলে যা‌চ্ছেন চামড়া। তাড়াশে কোরবানির চামড়ার দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন পশু কোরবানিকারীরা। কোরবানির পর দুপুর থেকেই উপজেলার সদর থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রামে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে থাকেন। কিন্তু এবার মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ‌্যাও নগন‌্য। কোন কোন এলাকায় চামড়া ক্রয় করার লোকই যায়‌নি! তাই বাধ‌্য হ‌য়ে অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে তাড়াশ উপজেলা সদরে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানেও উপযুক্ত মূল্য না পেয়ে কেউ কেউ চামড়া ফেলে রেখে চলে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই স্থানীয় মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দান করে দিচ্ছেন।
বৃহস্প‌তিবার (২৮ মে) বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এ সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, এ বছরে মফস্বলে সরকার চামড়ার একটা মূল্য নির্ধারণ করে দেন, কিন্তু তা হতে হবে লবণজাত করা চামড়া। কিন্তু কাঁচা চামড়ার ক্ষেত্রে ক্রেতা বিক্রেতারা স্থানীয়ভাবে দাম নির্ধারণ করে থাকেন। সে হিসেবে একটি বড় গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে পাঁচশ টাকা দরে। কিন্তু ছাগলের চামড়ার কোন দামই বলছেন না ক্রেতারা। এসব চামড়া ১০ থেকে ২০ টাকা করে দাম হাঁকা হচ্ছে।
তাড়াশ পৌর সদরের বাসিন্দা র‌হিম বলেন, তারাও এক লাখ ৪৯ হাজার টাকা দরের একটি ষাঁড় গরু কোরবানি দেন। মাত্র একজন ক্রেতাই সেটার দাম ক‌রে ৫০০ টাকায় কি‌নে নেন। ওনার কা‌ছে না বি‌ক্রি কর‌লে হয়ত চামড়াটা বি‌ক্রিই হ‌তো না কারণ আর কোন ক্রেতাই পাওয়া যায় নি!
তবে সন্ধ্যা নাগাদ দাম আরো পড়ে যেতে থাকে। গ্রামে দাম না পাওয়ায় অনেকেই তাড়াশ উপজেলা সদরে চামড়া বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানে দাম না পেয়ে মাঠে ফেলে রেখে যাচ্ছেন।
লালুয়া মা‌ঝিড়া গ্রামে বাসিন্দা সংগ্রাম বলেন, তিনি এ বছরে ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ছাগল কোরবানি দিয়েছেন। কিন্তু ‌সে চামড়ার কোন মূল্যই পান‌নি!
তার ভাষায়, গরুর চামড়ার কিছুটা মূল্য থাকলেও ছাগলের চামড়ার কোন মূল্যই নেই।
সন্ধ্যায় তাড়াশ মডেল মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা যায় চামড়া নি‌য়ে নাকাল হয়ে পড়েছেন চামড়া বিক্রেতারা। সেখানে ক্রেতা না পেয়ে অনেকেই চামড়া ফেলে চলে গেছেন।
তাড়াশ ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মোঃ এম.এ মাজিদ বলেন, কোরবানির সময় মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। চামড়া বিক্রির টাকা তাদের বার্ষিক আয়ের একটি অন্যতম উৎস। কিন্তু চামড়ার মূল্য না পেলে তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে ইসলামি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কোরবানির আগেই এসব মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হয়েছে।
তাড়াশ পৌর সদরের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী মো: মফিজ উদ্দিন বলেন, মোকামের দরের সাথেই আমাদের চামড়া কিনতে হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় বজারে এর প্রভাব পড়ছে। তিনি আরেকটি কথা যোগ করে বলেন, পেশাদার লোক ছাড়া চামড়া ছেলা হলে তা ত্রুটিপূর্ণ থেকে যায়।
এ কারণেই অনেক ক্রেতাই ওই চামড়া কিনতে চান না। তবে লবণজাত করা গেলে আগামীতে তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর