দিঘীনালায় বিজু বৈসু ও সাংগ্রাইয়ের বর্নিল সুচনা
অনিক দাশ,, খাগড়াছড়ি
পাহাড়ের বুক চিরে বইছে উৎসবের হাওয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব ‘বিঝু-বৈসুক-সাংগ্রাই’ (১৪৩২ বাংলা) উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণিল মেলা ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক মহোৎসব। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন পার্বত্য জনসংহতি কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা। চাকমা সার্কেলের রাজা দেবাশীষ রায়ের প্রধান উপস্থিতিতে এবং ইউপি চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। উৎসবের সূচনা লগ্নেই ঐতিহ্যবাহী ‘গিলে খেলা’ এবং পাহাড়ি সংস্কৃতির নান্দনিক ‘ঘড়িয়াল নৃত্য’ উপস্থিত হাজারো দর্শককে মুগ্ধ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজা দেবাশীষ রায় উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিঝু, বৈসুক ও সাংগ্রাই কেবল নিছক উৎসব নয়, এটি পার্বত্য জনপদের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের শেকড় ও স্বজাতীয় পরিচয় তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। মেলার উদ্বোধক বিমল কান্তি চাকমা তাঁর বক্তব্যে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, এই মিলনমেলা পাহাড়ের সকল মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান এই মেলাকে ঘিরে এখন উৎসবমুখর পুরো দীঘিনালা। মেলা প্রাঙ্গণ সেজেছে পাহাড়ি ঐতিহ্যের বাহারি সাজে; যেখানে ঠাঁই পেয়েছে পাহাড়ের নারীদের নিপুণ হাতে বোনা পোশাক, বাঁশ-বেতের তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্প ও সংস্কৃতিনির্ভর নানা পণ্য। এছাড়া পাহাড়ি স্বাদের হরেক রকম খাবারের স্টল মেলায় আগত দর্শনার্থীদের রসনা মেটাচ্ছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত এই মেলাটি যেন পাহাড়ের অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর জীবনধারার এক অনন্য প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে।








